রিসোর্টে পুড়ে মারা গেলেন ঢাবি ও জবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

রিসোর্টে পুড়ে মারা গেলেন ঢাবি ও জবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে টুপটুপ নামে একটি রিসোর্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাফিসসহ তার পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া, এ ঘটনায় মোট ১০ জন নিহতের খবর আমরা জানতে পেরেছি। 

একই পরিবারের নিহতরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জবি শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, ফারিহা কবির (৩৩) ও ফাইয়াজ আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। 

হতাহতরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আহাদ সরকারের আত্মীয়। সমকালকে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আবদুল আহাদ সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ছয়জন এ ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তারা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের আজ শনিবার সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তবে সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার সময় তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ কারণে তারা বের হতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছি, এর মধ্য একই পরিবারের ছয়জন সদস্য হতে পারে। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এক বার্তায় ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। 

এক শোকবার্তায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।