ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর অংশে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সওজের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ অভিযানে মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সওজের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী। মাঠে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্যা এবং মাধবপুর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা। সকাল থেকে আল আমিন ফুডফেয়ার পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কজুড়ে টানা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, সড়কের ধারে অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও দোকানপাটের কারণে এলাকায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এতে ৬ লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, “মহাসড়ক দখল করে কেউ ব্যবসা চালাতে পারবে না। উন্নয়নকাজে প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভূমি অধিগ্রহণের আওতাধীন দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও শিগগিরই উচ্ছেদের আওতায় আসবে। ইতোমধ্যে মালিকদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া চলছে।
উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে যাত্রীরা বলেন, এতে দীর্ঘদিনের জট ও ভোগান্তি কমবে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রতিদিন তীব্র যানজট লেগেই থাকত। এখন অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
তবে উচ্ছেদ হওয়া কিছু দোকানি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে তাদের সংসার চলে। হঠাৎ উচ্ছেদে তারা বিপাকে পড়েছেন। এক দোকানি বলেন, “এখন উচ্ছেদ হলে আমরা কোথায় যাব?”
এ বিষয়ে ওসি সহিদ উল্যা জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে। দখল ছাড়াও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।
দীর্ঘদিন পরে মাধবপুরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত মনিটরিং থাকলে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, কমবে দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি।

