সিলেটে হঠাৎ সক্রিয় জাতীয় পার্টি, পাল্টে যেতে পারে নির্বাচনী সমীকরণ

সিলেটে হঠাৎ সক্রিয় জাতীয় পার্টি, পাল্টে যেতে পারে নির্বাচনী সমীকরণ

জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা থাকলেও সব আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি এবং বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন ভোটের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ জাপার সক্রিয়তায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মকসুদ ইবনে আজিজ লামা। তিনি ১৯৯১ সালে সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ) আসনে জাপার প্রার্থী হয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। তিনি এর আগেও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ–জৈন্তাপুর–গোয়াইনঘাট) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান ডালিম।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে জাপার প্রার্থী হয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ।

এদিকে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সিলেট-৫ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তিনি সিলেট-৫ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে সিলেট-২ আসনে এখনো জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ আসনে জাপার একটি অংশ ও জেপির সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট থেকে ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকলেও এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে জাপা যদি দলটির একটি অংশের ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়, তাহলে অনেক আসনের ফলাফল চমকপ্রদ হতে পারে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, প্রার্থী ঘোষণা কিছুটা দেরিতে হলেও মাঠ পর্যায়ে দলটির প্রস্তুতি রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হলে সব প্রার্থী একযোগে প্রচারণায় নামবেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন কি না—তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

জাতীয় পার্টির এই সক্রিয় অংশগ্রহণ সিলেটের নির্বাচনী রাজনীতিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।