মার্চ মাসে সিলেটে সড়কে ঝরেছে ৩৬ প্রাণ

মার্চ মাসে সিলেটে সড়কে ঝরেছে ৩৬ প্রাণ

সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আবারও বাড়ছে সিলেটসহ সারাদেশে। গত মার্চ মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা বাড়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।  শনিবার (৪ এপ্রিল) সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মার্চ মাসে সিলেটে ৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ৭২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সারাদেশে সড়কে ৬১৬টি দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সবমিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৬৭০টি দুর্ঘটনায় মোট ৬৮২ জন নিহত এবং ১,৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বড় অংশ দখল করেছে। মার্চ মাসে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনার দিক থেকে বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহত ও আহতদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন আনসার সদস্য, ১ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ জন চিকিৎসক ও ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু এবং ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

এই সময়ে মোট ৯৭৫টি যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস এবং উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৭.৬৬ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কায় এবং ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটেছে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০.৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২.০৭ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।