ভোট নিয়ে সন্দেহ নেই, আছে ভয়
দুই-চার দিন আগেও কমলগঞ্জের মুদি দোকানি পারভেজ চোখে-মুখে সন্দেহ নিয়ে প্রশ্ন করত, ‘ইলেকশন হইতোনি ভাই?’
‘কেন? সন্দেহ কেন?’ প্রশ্ন করলে ছেলেটা হেসে বলত, ‘কতজনে কতডা কয়!’
দিন পাঁচেক আগেও গ্রামগঞ্জসহ রাজধানীর অনেক মানুষের মুখে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের কথা শোনা গেছে। ভোট আদৌ হবে কি হবে না—এমন প্রশ্ন ছিল অনেকের মুখেই। এবারের ভোট উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরেই বলেছেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।’ একই কথার পুনরাবৃত্তি করে গত ২৯ জানুয়ারিও রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি।
নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েবি নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছে যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
এখন আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে, কিভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কিভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়।’ দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।’
গত মঙ্গলবারও ঢাকা-৯ আসনের আরেক আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটাররা শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোট সুষ্ঠু হবে কি না! তাঁরা আমাদের কাছে এসে বলছেন, নির্বাচনে কেন্দ্র দখল হবে কি না? আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বুধবার বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে
নির্বাচনের জন্য কোনোভাবেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের অনেকের মধ্যে একটি বিশেষ দলের দিকে হেলে পড়ার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি।”
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জনমনের এ রকম সন্দেহ-শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত চিত্র জানতে অনুসন্ধানে নামে কালের কণ্ঠ। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বের সঙ্গে এবারের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনী প্রস্তুতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। যে চিত্র পাওয়া যায়, তা মূলত আশা-নিরাশার মিশেল।
নির্বাচন কমিশন এগিয়ে : অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এবারে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি আগের চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে আছে।
এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশন ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচনের জন্য করণীয় সব কর্মকাণ্ডকে সুবিন্যস্ত করে ২০০৭ সালের ১৫ জুলাই একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। পরের বছর ২ নভেম্বর, অর্থাৎ ভোটের ৫৭ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এ তফসিল চার দফা পরিবর্তন করা হয়। নির্বাচনী আসনগুলোতে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছাতে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত লেগে যায় কিছু কিছু এলাকায়। সব কটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সামগ্রী ভোটের দিন ভোরের মধ্যে পৌঁছায়।
আর এবার ভোটের ৬৩ দিন আগেই গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর পরে প্রার্থীদের মনোনয়নপ্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি বলছে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপানো একদম শেষ পর্যায়ে। দেড় শতাধিক আসনের ব্যালট বাক্স, প্রতীকসংবলিত ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন ধাপে ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলার বিষয়ে মিটিং করে যাচ্ছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ অধিশাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৪১ জেলার ১৪৫ আসনের ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সামগ্রী কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে পাঠানো হয়েছে জেলা রিটার্নিং অফিসারদের কাছে। আজ (শুক্রবার) আরো আটটি জেলার ব্যালট পেপার যাবে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই বাকি আসনগুলোর নির্বাচনী সামগ্রী চলে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেসব আসনে কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসেনি, সেগুলোর ব্যালট পেপার ছাপানো সম্ভব হয়নি। চূড়ান্ত রায় এলেই ব্যালট পেপার প্রস্তুত কমর দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯। এবার ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২। গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং চার লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সবার নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেছে; এমনকি তাঁদের প্রশিক্ষণ পর্বও শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসি। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একই দিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে বুথ ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
আরো অগ্রগতি : এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম ১০৮টি ভোটকেন্দ্রের ফল সংগ্রহ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আধুনিক নেটওয়ার্ক বা ওয়্যারলেস সিস্টেম ব্যবহার করবে ইসি। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসি গত বুধবার তিন জেলার রিটার্নিং অফিসারদের চিঠি দিয়েছে। এ পদ্ধতিতে রাঙামাটির ২০টি, বান্দরবানের ৪৬টি এবং খাগড়াছড়ির ৪২টি ভোটকেন্দ্রের ফল সংগ্রহ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেন। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটার Out of Country voting (OCV) নামে সাত লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন অনুমোদিত, আর দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য In Country postal Voting (ICPV) নামে সাত লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটার অনুমোদিত।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বুধবার বলেন, “এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে তিন লাখ ২৬ হাজার ২০টি পোস্টাল ব্যালট এরই মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া চার লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন প্রবাসী ভোটার তাঁদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে ৪১ হাজার ১৭৮টি গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং অফিসার।”
ভয় আইন-শৃঙ্খলায় : সংঘাতময় এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও কার্যত সেটি পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সরকার আভাস দিয়েছিল যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি।
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেনা সদস্যদের সঙ্গে সংঘাত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তারসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। তবে নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা বা শঙ্কা তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি তখন।
কিন্তু এবার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। টিআইবি বলছে, নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার পর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে নির্বাচনী সহিংসতায়। মাঠে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও দেখা দিয়েছে অব্যবস্থাপনা।
অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির বাগযুদ্ধ চলছেই। তাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহত হন। একদিকে প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে আসনগুলোতে চষে বেড়াচ্ছেন; অন্যদিকে আরো নির্বাচনী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পরে ভেঙে পড়া পুলিশের কাজে এখনো পুরোপুরি গতি আসেনি। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘর্ষের শঙ্কা থাকলে সেখানে পুলিশ অ্যাকশনে না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’
ঝুঁকিপূর্ণ, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মিলিয়ে ২৫ হাজার ৩৩২টি কেন্দ্র রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরে ‘গুরুত্বপূর্ণ’-এর ব্যাখ্যায় কেন্দ্রগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজধানীতে ডিএমপির আওতায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে দুই হাজার ১২৯টি। এর অর্ধেকেরও অনেক বেশি, এক হাজার ৬১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার ৩৭টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জের ৩৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৮০৫টির মধ্যে ৫৭৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
আছে অভয়বাণী : তবে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাসহ গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ অধিশাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ধাপে মিটিং এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সপ্তাহখানেক আগে নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ও তুলনামূলকভাবে ভালো আছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে; তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলব। ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে দলগুলোর সহযোগিতা চাই।’
তিনি বলেন, ‘সমস্ত বাংলাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারিক কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। কাজেই আমরা মনে করি, কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেন, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারিক কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন।’ সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

