যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই ইসরাইলের হামলায় লেবাননে নিহত ২৫৪

যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই ইসরাইলের হামলায় লেবাননে নিহত ২৫৪

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে লেবাননে দখলদার ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জন। যদিও যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরাইলে হামলা বন্ধ করেছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

লেবাননের জরুরি পরিষেবা সংস্থা (সিভিল ডিফেন্স) জানায়, হামলায় শুধু রাজধানী বৈরুতেই নিহত হয়েছেন ৯২ জন। আহত হয়েছেন ৭৪২ জন। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে নিহত হয়েছেন ৬১ জন। আহত হয়েছেন ২০০ জন।

এ ছাড়া নাবাতিয়েহ এলাকায় ২৮ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত; বালবেকে ১৮ জন নিহত ও ২৮ জন আহত; আলেই জেলায় ১৭ জন নিহত ও ৬ জন আহত; টায়ারে ১৭ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত, সিদনে ১২ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত এবং হেরমেলে ৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার (৮ এপ্রিল) এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি নির্বিচার এই হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

নাবিহ বেরি বলেন, ‘আজকের এই অপরাধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও কনভেনশনের প্রতি এক চরম অবজ্ঞা। ইসরাইল নিরন্তরভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে এসব নিয়ম লঙ্ঘন করে চলেছে।’

ইসরাইলের এই ব্যাপক বিমান হামলার আগে হিজবুল্লাহ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ইসরাইলে হামলা স্থগিত রেখেছে।

হিজবুল্লাহর এ ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলের বিমানবাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

তেহরান বলে আসছে, লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। যদিও তা নাকচ করে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল-জাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।