বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সীমাবদ্ধতা যেখানে
জাতিসংঘে নেতৃত্ব, শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি, জলবায়ু কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, প্রযুক্তিনির্ভর কূটনীতি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার যুগে দেশের কূটনৈতিক কাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক, সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সীমিত জনবল, বাজেটের ঘাটতি, বিশেষায়িত জ্ঞানের অভাব এবং নীতির ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পেশাদারিত্ব, গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ঘাটতি
আধুনিক কূটনীতি এখন শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থাও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে বাংলাদেশের অনেক বিদেশি মিশনে এখনো রাজনৈতিক প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচলিত কনস্যুলার কার্যক্রম প্রাধান্য পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাণিজ্যিক দরকষাকষি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক অংশীদারত্ব তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সহায়তার অভাব
সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কূটনীতির মতো বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞ কূটনীতিকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক কাঠামোয় এসব বিষয়ে বিশেষায়িত দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জটিল বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রযুক্তিনির্ভর নীতিনির্ধারণে কারিগরি বিশেষজ্ঞের ঘাটতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে। পাশাপাশি শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিংকট্যাংক ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের অভাবও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি মিশনগুলো তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠালেও দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও নীতিগত সুপারিশ তৈরিতে আরও সক্ষমতা প্রয়োজন।
বিদেশি ভাষায় দক্ষতার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশি কূটনীতিকদের বড় অংশ ইংরেজিতে দক্ষ হলেও আরবি, ম্যান্ডারিন, রুশ, ফরাসি ও স্প্যানিশের মতো ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় ভাষা জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ সহজ হয়।
চীন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের বিদেশি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, কূটনীতিকদের যে দেশে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করতে না পারলে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক নিয়োগ ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন
বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কারও কারও পর্যাপ্ত কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকায় পেশাদার কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে নীতির পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের দক্ষতায় সামগ্রিকভাবে ঘাটতি নেই। সীমিত জনবল নিয়েও অনেক মিশনে কূটনীতিকরা ভালো কাজ করছেন। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনেক সময় পেশাদার কূটনীতিকদের জন্য সমস্যা তৈরি করে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কারও কারও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকে না। আবার সরকার পরিবর্তনের পর নীতিতেও পরিবর্তন আসে। তখন কূটনীতিকদের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করতে হয়। এটি একটি বড় সমস্যা।
সীমিত বাজেট ও জনবল সংকট
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমিত বাজেটের কারণে আন্তর্জাতিক প্রচার, গবেষণা, জনসংযোগ ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্যোগে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে বিদেশি মিশনগুলোতে জনবল সংকটও রয়েছে। অনেক মিশনে অল্পসংখ্যক কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদন তৈরি, কনস্যুলার সেবা, প্রবাসী কল্যাণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার মতো দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হয়।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে মিশনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ফলে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
পাবলিক ডিপ্লোম্যাসিতে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ নিজেদের ভাবমূর্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উপস্থিতি বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগ জোরদার এবং ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি মিশনগুলোতে কার্যকর মিডিয়া সেল ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উন্নয়ন অর্জন আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রবাসীদের কৌশলগত সম্পৃক্ততা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবাকেন্দ্রিক।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি
পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও কূটনৈতিক কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি মিশনগুলো দ্রুত ও সমন্বিত নীতিগত নির্দেশনা না পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আধুনিক কূটনীতিতে শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
বাংলাদেশের কূটনীতিকদের দক্ষতা ও মেধার ঘাটতি রয়েছে কি না-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব-পশ্চিম অনুবিভাগ) ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশন ড. নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, সবার ক্ষেত্রে নয়, তবে কোনো কোনো কূটনীতিকের মেধা ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়োগব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো কূটনীতিকের দক্ষতার বিকাশও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয় না। এ কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও নিখুঁত করার পাশাপাশি কূটনীতিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে।
ড. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কূটনীতিকদের সব বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
কীভাবে সীমাবদ্ধতা কাটানো সম্ভব
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা কাটাতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে-
অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার: প্রতিটি বিদেশি মিশনের জন্য বিনিয়োগ, রপ্তানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ।
বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ: ভূরাজনীতি, এআই, সাইবার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি কূটনীতিতে দক্ষতা বাড়ানো।
ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ: চীন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাকেন্দ্রিক ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি।
গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ: বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিংকট্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো।
পেশাদারিত্ব নিশ্চিত: নিয়োগ ও পদায়নে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া।
ডিজিটাল কূটনীতি: বিদেশি মিশনগুলোতে কার্যকর মিডিয়া সেল ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা: প্রবাসী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে যুক্ত করা।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের আরও দক্ষ হতে হবে। বিশেষ করে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি কূটনীতিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
ভবিষ্যতের কূটনীতিক কেমন হওয়া উচিত
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশি কূটনীতিকদের শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের অর্থনৈতিক আলোচক, কৌশলগত বিশ্লেষক, প্রযুক্তি বিষয়ে ধারণাসম্পন্ন পেশাজীবী, দক্ষ যোগাযোগকারী এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের কূটনীতির অন্যতম শক্তি হলো বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পেশাদারিত্ব, বিশেষায়িত দক্ষতা, গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই।
কূটনৈতিক কাঠামোর বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে নিয়োগব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, জনবল ও বাজেটের উন্নয়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌজন্যে: বাংলানিউজ২৪ডটকম

