সিলেটে আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন: র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ১

সিলেটে আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন: র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ১

র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-১৪–এর যৌথ অভিযানে সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইমন আহমদ হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়,গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সাজিদুল ইসলাম মুন্না (২৩)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ইব্রাহিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহত ইমন আহমদ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার খশির নামনগর এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিনি বাড়ি থেকে বৈরাগীবাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানান, তিনি ও এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমন আহমদকে বিয়ানীবাজার থানাধীন শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমন আহমদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন কদমতলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামলার পলাতক আসামি সাজিদুল ইসলাম মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে ঘটনার পরপরই গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পুলিশ একজনকে আটক করে। তিনি হলেন শেওলা ইউনিয়নের আব্দুল করিম মনাইরের ছেলে আশরাফুল (২৩)।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত ইমন আহমদের ব্যবহৃত আইফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, আশরাফুল ও ইমন আহমদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। ইমনের আইফোনটি নেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে কয়েকজনের যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

র‌্যাব জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।