সুনামগঞ্জ হাসপাতালে ৭ বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ

সুনামগঞ্জ হাসপাতালে ৭ বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ

সুনামগঞ্জের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। টানা সাত বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে যেকোনো সময় হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছরে হাসপাতালের ছয়টি অ্যাকাউন্টে মোট বকেয়া হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ ৬২ হাজার ২৭২ টাকা। এর মধ্যে দুটি উচ্চক্ষমতা (এইচটি) লাইনে সংযোগ—যার ওপর হাসপাতালের মূল কার্যক্রম নির্ভরশীল। বাকি চারটি পোস্ট-পেইড সংযোগেও বিপুল পরিমাণ বিল অনাদায়ে রয়েছে।

একাধিক নোটিশ পাঠানো ও তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ না করায় ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না হলে ৯ ডিসেম্বর থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিল পরিশোধ না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, আমি আসার আগেই কিছু বকেয়া ছিল। সাম্প্রতিক মাসেরও কিছু বিল বাকি রয়েছে। হিসাব বিভাগ থেকে টাকা পেলেই আমরা বিল পরিশোধ করব। উভয় পক্ষই সরকারি প্রতিষ্ঠান—বরাদ্দ পেলেই পরিশোধ করা হবে।”

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে হাসপাতালের জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।

সুনামগঞ্জবাসী আশা করছেন—শেষ পর্যন্ত দ্রুত বরাদ্দ মিলে হাসপাতালের বকেয়া পরিশোধ হবে এবং জেলার প্রধান এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র অচল অবস্থায় না পড়ে।