সিলেট বিএনপিতে ঐক্যের বার্তা বিভক্তি ভুলে নির্বাচনী মাঠে মুক্তাদির–আরিফ
দীর্ঘদিনের বিভক্তি ভুলে একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। তাদের যৌথ প্রচারণাকে সিলেট বিএনপিতে ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের বিএনপি দলীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিএনপিতে খন্দকার মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীকে কেন্দ্র করে দুটি আলাদা বলয় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে মনোনয়ন ঘোষণার পর এই দুই বলয়ের মধ্যে নীরবতা ও দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিলেট-১ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে সেখানে মনোনয়ন পান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সীমান্তবর্তী সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী করা হয় আরিফুল হককে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর আরিফুল হক চৌধুরীর সরাসরি মুক্তাদিরের পক্ষে মাঠে নামাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতারা। তাদের মতে, এতে দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং নির্বাচনী মাঠে দল আরও শক্ত অবস্থানে যাবে।
বিএনপি নেতারা বলেন, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী হলেও দীর্ঘদিন সিলেট সিটির মেয়র থাকার কারণে নগর এলাকায় আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। নগর বিএনপির একটি বড় অংশ তাঁর অনুসারী হলেও এতদিন তারা প্রকাশ্যে খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে মাঠে নামেননি। আরিফুল হকের সরাসরি প্রচারণায় অংশগ্রহণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বনেদি পরিবারের সন্তান হিসেবে এলাকায় মুক্তাদিরের ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ভদ্র ও সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মুক্তাদির ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে প্রার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে আরিফুল হক চৌধুরী শহর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির প্রভাবশালী প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে টানা দুইবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা মেনে তিনি প্রার্থী হননি।
সিলেট বিএনপির নেতাদের মতে, মুক্তাদির ও আরিফুল হকের এই যৌথ উপস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।

