বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন বাধা
বৃটেনের কমপক্ষে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি স্থগিত বা সীমিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বিদেশে পড়াশোনার আশায় থাকা বহু প্রকৃত শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধাক্কা।
কঠোর হোম অফিস নীতিমালা ও ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় যুক্ত করেছে। বিশেষত কম টিউশন ফি নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্পন্সরশিপের লাইসেন্স বাঁচাতে ভর্তি প্রক্রিয়া কঠোর করছে। কারণ ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে এখন সহনশীলতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ডনে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। তাতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বর্তমানে ১৮ শতাংশ, যা নতুন ৫ শতাংশ সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি।
প্রতিবেদনগুলো বলছে, বৈধ ভিসায় বৃটেনে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানি নাগরিকরা বৃটেনের মোট আশ্রয় আবেদনকারীর ১০ ভাগের এক ভাগ; শুধু ছাত্র ভিসা থেকে অন্য ভিসায় রূপান্তর করে আশ্রয়ের আবেদনকারীর সংখ্যা ৫,৮০০-এর বেশি, যা ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়েও এত নয়। মোট হিসাব অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১০,০০০ পাকিস্তানি পড়াশোনা, কাজ বা ভিজিটর ভিসায় বৃটেনে প্রবেশ করে পরবর্তীতে আশ্রয় চেয়েছেন।
এই প্রবণতা দেখায় যে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট কতটা মানুষকে দেশ ছাড়ার পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। একইসঙ্গে বৃটেনের অভিবাসননির্ভর রাজনীতির কারণে তারা ভিসার পথগুলো আরও কঠোর করে দিচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত খুব অপ্রত্যাশিত নয়; তবে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতাশাজনক। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে না, সেগুলোর ফি তুলনামূলক কম। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্বল্প আয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা পরামর্শদাতারা যথার্থই বলছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিছু মানুষের অপব্যবহারের কারণে সবার পথ রুদ্ধ হওয়া উচিত নয়। পাকিস্তানের উচিত বৃটেনের সঙ্গে আলোচনায় বসে ছাত্র এ সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করা এবং যোগ্য আবেদনকারীরা যাতে অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের উচিত নিজেদের পরিকল্পনা বৈচিত্র্যময় করা। ইউরোপ কিংবা বৃটেনের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দেয়া। তবে বৃটেনের বার্তাটি স্পষ্ট: স্টুডেন্ট ভিসা কখনোই স্থায়ী বসবাসের ‘পেছনের দরজা’ নয়।
পাকিস্তানের দায়িত্ব- অন্যদের হতাশা ও অপব্যবহারের খেসারত যেন তাদের প্রকৃত শিক্ষার্থীদের গুনতে না হয়, তা নিশ্চিত করা।

