পশ্চিম তীর ভাগের নকশা
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
অধিকৃত পশ্চিম তীর দুই ভাগ করতে কূটকর্মে লিপ্ত হয়েছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের অবৈধ বসতি নির্মাণের এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার বার্তা দিয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও মিশর। এর ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনি মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন খবরের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আরব নিউজ ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইসরায়েল E1 প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক্ষেত্রে সংগঠনটি বাণিজ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, দরপত্র আহ্বানের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে।
বৃহস্পতিবার(১৯ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকল্পটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে দেশগুলো। একই সঙ্গে বসতি নির্মাণ কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নির্মাণকাজের চুক্তির জন্য দরপত্রে অংশ না নিতে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কতা জানিয়েছে তারা। জানা গেছে, দরপত্রের বিষয়ে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। এর পাশাপাশি পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশটি।
ই-১ প্রকল্পে দুই ভাগ পশ্চিম তীর
গত মঙ্গলবার জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত E1 এলাকায় ১২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয়। ই-১ হলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি কৌশলগত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এটি পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত। এলাকাটি প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার। E1 এলাকায় ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি বসতি ও আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করে আসছে।
এখানে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি আবাসন নির্মাণের কথা রয়েছে। E1 এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে, E1-এ বড় আকারে বসতি নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
দুই পশ্চিমা কূটনীতিকের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ইসরায়েল নির্মাণকাজ এগিয়ে নিলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
আরব নিউজের তথ্য মতে, ইসরায়েলি এই পদক্ষেপে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিনিরা। ওই এলাকায় ইহুদি বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। এর ফলে একটি সংলগ্ন ও অবিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গত বছর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, এই পরিকল্পনা একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে।

