সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘কিছুটা চিন্তিত’ স্পিকার
জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।
আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।’
বৃহস্পতিবার ( ২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।
বিরোধীদলীয় সদস্যদের তুমুল চিৎকার ও টেবিল চাপড়ানোর কারণে বেশ কিছুক্ষণ সংসদ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হয় এবং তিনি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে সেজন্য সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে।
সংসদ সদস্যদের রুলস অব প্রসিডিউর (কার্যপ্রণালী বিধি) পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্পিকার যখন বলেন প্রতিটি সদস্যকে নিজের আসনে বসতে হবে এই আইন ও রীতি যদি আপনারা ভঙ্গ করেন বা না মানেন, তাহলে সংসদ কিন্তু বেশিদিন চলবে না।’
অধিবেশনে বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে অসহিষ্ণুতা দেখা যাচ্ছে। একজন মন্ত্রীকে তো তার বক্তব্য শেষ করতে দিতে হবে। শব্দ করে, চিৎকার করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। একসাথে ৮০ জন দাঁড়িয়ে যদি কথাই বলতে না দেন এটা সংসদীয় প্র্যাকটিস নয়।’
স্পিকার বলেন, ‘৪০ বছর আমি এই সংসদে আছি। অতীতে সংসদগুলোর অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। এই সংসদে বাংলাদেশের সংসদের স্পিকারকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। সুতরাং অতীতের দিকে তাকিয়ে আমি তো মনে করি একটি ভালো সংসদ আমরা পেয়েছি, জনগণের সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে পেয়েছি, উভয় পক্ষকে আমি ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ জানাবো।’
এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নকে ‘শাহবাগের বক্তৃতার’ সঙ্গে তুলনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা এক কথা না। এরপর সংসদ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য’ করে কথা বলেন।

