শীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেসব ফল

এখন শীতকাল। এ সময় শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রয়োজন। সে জন্য আপনার শরীর ঠিক রাখতে মৌসুমি ফল নিয়মিত খান। এতে আপনার শরীর থাকবে সুন্দর ও সতেজ।
ঋতু অনুযায়ী শীতকালে। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় রাখুন মৌসুমি ফল। কারণ মৌসুমি ফল যেমন সুস্বাদু, তেমনই প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই মৌসুমি ফলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকতে এই শীতে ফল খাদ্যতালিকায় রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই যেমন ধরুন আপেল। শীতকালে যদি সম্ভব হয়ে প্রতিদিন একটা করে আপেল খান। ফাইবার, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর আপেল হৃদরোগ, হজমে সহায়তা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সকালের ব্রেকফাস্ট হোক কিংবা মিড-ডে স্যালাদ অথবা যে কোনো ডেজার্টে আপেলের টুকরো মিশিয়ে খান। শরীর পুষ্টি পাবে।
আর টুকটুকে লাল বেদানা শুধু স্বাদেই নয়, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং প্রয়োজনীয় খনিজের পাওয়ার হাউসও বটে। নিয়মিত এই ফল খেলে হার্ট ভালো এবং সুরক্ষিত থাকে। এই ফল শরীরের প্রদাহ হ্রাস করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে দারুণ কাজ দেয়। কোনো খাবারে বেদানার লাল দানা মিশিয়ে দিলে খাবারে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই তা পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।
আর পেয়ারা হলো ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার ও পটাশিয়ামের ভাণ্ডার। এই ফল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ক্ষমতা উন্নত করে এবং কার্ডিওভাসকুলার ফাংশনকে সহায়তা করে। শুধু টাটকা ফল হিসেবেই নয়, পেয়ারার রস ও স্যালাদও খুব সুস্বাদু।
এ ছাড়া আঙুর সবুজ হোক বা কালো কিংবা লাল— সব ধরনের আঙুরই শীতকালীন খাবার হিসেবে আদর্শ। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। আঙুর কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। যে কোনো অবস্থাতেই আঙুর খাওয়া যায়। আট থেকে আশি আঙুর খেতে প্রায় সবাই ভালোবাসে।
এ ছাড়া আছে কমলালেবু। শীতকাল আর কমলালেবু যেন একে অপরের পরিপূরক। শীত পড়লে বাঙালির খাদ্যতালিকায় কমলালেবু থাকা চাই। ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফাইবারে ভরপুর কমলালেবু রোগপ্রতিরোধে সিদ্ধহস্ত। এ ছাড়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।