বিশেষ প্রতিবেদন :: মিজানুর রহমান মিজান

১৮ কোটি বাঙালির গর্ব: বিশ্বমঞ্চে ডাঃ নাহরীন আহমেদ

১৮ কোটি বাঙালির গর্ব: বিশ্বমঞ্চে  ডাঃ নাহরীন আহমেদ

ডাঃ নাহরীন আহমেদ—একটি নাম, একটি সাহসের প্রতীক, এক অনন্য মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন নারী ডাক্তার নন; তিনি সাহস, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে তিনি দাঁড়িয়ে গেছেন পৃথিবীর অসহায়, বিপর্যস্ত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে। এমন নিঃবিক ও অদম্য সাহসী নারী ১৮ কোটি বাঙালির মাঝে সত্যিই বিরল—প্রায় অলৌকিক।

তাঁর প্রতিটি রক্তবিন্দুর মাঝে প্রবাহিত হয় অসীম ধৈর্য, অটুট সাহস এবং মানুষকে ভালোবাসার এক পবিত্র শপথ। মানুষের কষ্ট দেখলে যাঁর হৃদয় কেঁদে ওঠে, যিনি ব্যথিত মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে পারেন—তিনিই বাংলাদেশী আমেরিকান ডাঃ নাহরীন আহমেদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

গাজায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষের পাশে ডা: নাহরিন আহমেদ ।গাজায় ডা: নাহরীন আহমেদ মুমূর্ষু রোগীর পাশে ।

এই পরিবারে এমন সাহসী নারী শুধু ডাঃ নাহরীন নন—এই পরিবারের প্রত্যেকেই সুসন্তান। এই পরিবারের গুণগান করতে গেলে আমি নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। মাঝেমধ্যে নিজেকে প্রশ্ন করি আমাদের সমাজের স্বার্থপর মানুষদের কথা। ভাবতে কষ্ট লাগে—এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আমরা অনেকেই শুধু অর্থ ও ব্যক্তিগত সুখের পেছনে ছুটে চলেছি, অথচ ভুলে যাচ্ছি পরকালের কঠিন জবাবদিহিতার কথা। আজ সমাজ থেকে মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে, মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা প্রায় লুপ্ত। যখন সমাজের অধিকাংশ মানুষ নিজের স্বার্থ ও সুখ নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ডাঃ নাহরীন আহমেদ তাঁর কর্মের মাধ্যমে পুরো বাঙালি জাতিকে, এমনকি বিশ্ববাসীকেও দেখিয়ে দিয়েছেন—মাদার তেরেসার মতো একজন মানবিক নারী লাল-সবুজের পতাকার দেশ বাংলাদেশেও জন্ম নিতে পারেন।

যখন বিশ্বের অন্যতম সেরা গণমাধ্যম বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাঁর মানবিক কাজের সংবাদ প্রচারিত হতে দেখি, তখন গর্বে বুক ভরে যায়। গত বছর গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংবাদ দেখে আমি আমার ২৬ বছরের মেয়েকে বলেছিলাম—“দেখ মা, আমাদের বাঙালি, আমাদের সিলেটি মেয়ের সাহস আর তাঁর পরিবারের আত্মত্যাগ।” আমার মেয়ে তখন কয়েক মিনিট নিশ্চুপ ছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম—সে বুঝেছে, একজন বাবা হিসেবে আমি তাকে কী বোঝাতে চেয়েছি।

যাক, অন্য প্রসঙ্গে যেতে চাই না। লিখতে লিখতে আমি নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছি, মন চায় আরও অনেক কিছু লিখি।

ডাঃ নাহরীন আহমেদ এমন এক গর্বিত ও মর্যাদাবান পরিবারের সন্তান, যার শেকড়ে রয়েছে ত্যাগ ও আদর্শের ইতিহাস। তাঁর দাদা মরহুম শহীদ সামছুদ্দিন সাহেব এবং বাবা ডাঃ জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মা ডা: ফাতেমা আহমেদ —এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের চিন্তা-চেতনায় মিশে আছে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ। এই পরিবারের প্রতিটি কাজের পেছনেই রয়েছে মানবতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

ডা: নাহরীন আহমেদের গর্বিত মা ডাঃ ফাতেমা আহমেদ ও বাবা অধ্যাপক ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ

ডা: নাহরীন আহমেদের গর্বিত মা ডাঃ ফাতেমা আহমেদ ও বাবা অধ্যাপক ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ

জিয়া ভাইয়ের পরিবারের সান্নিধ্য পেয়েছি বেশ কয়েক বছর আগে, আমার আরেক মেন্টর শ্রদ্ধেয় বাসন ভাইয়ের মাধ্যমে। সেই থেকেই চেষ্টা করি তাঁদের মতো গুণী মানুষের আদেশ-উপদেশ শুনে, সামর্থ্যের মধ্যে কিছু ছোটখাটো ভালো কাজ করার। বড় বড় কাজ করার মতো অভিজ্ঞতা কিংবা সামর্থ্য আমার নেই—তবুও চেষ্টা করি সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। লিখতে লিখতে অনেক কিছু লিখে ফেললাম—লেখায় কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

পরিশেষে, আমি ডাঃ নাহরীন আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ পাক যেন তাঁদের এই মহান ও মানবিক কাজের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁদের জীবনকে আরও কল্যাণময় করেন এবং মানবতার পথে তাঁদের দৃঢ় পদচারণাকে কবুল করেন।