উন্নয়নকাজে অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয়দের নজরদারির আহ্বান: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয়দের নজরদারির আহ্বান: সিলেটে  বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত নজরদারি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট নগরের কানশাইলে সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের স্বার্থেই কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। এসব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে কাজের তদারকি করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ওই কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখা যেতে পারে। স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সময় সময় দেখবেন কেমন কাজ হচ্ছে। আমার হক আদায় করার প্রতি যদি আমি যত্নবান না হই, কেউ আমার হক আদায় করে দেবে না।”

নদীভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রকল্প
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুরমা নদী ও চেঙ্গেরখালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি জানান, পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রকল্পের কাজও শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুরমা নদীর মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানশাইলে ৫৫০ মিটার, টুকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে।

এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পুনঃখনন, বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন, গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং সারি-গোয়াইন নদীর মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প
সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুরমা নদীর দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক তৈরি। এসব অবকাঠামো বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলার পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগও তৈরি করবে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট নগরে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। নদীর দুই তীরের উন্নয়ন হলে তা নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়; এটি একটি দলগত উদ্যোগ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খানসহ দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।