সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সহিংসতা, কালো টাকার ব্যবহার এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন ওয়াচিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’-এ বলা হয়, দেশের অন্তত ৩৩টির বেশি জেলা ও প্রায় ৫০টি সংসদীয় আসনে এখন পর্যন্ত ১৩১টিরও বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এবং নির্বাচনী সমতার পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউএ’র সভাপতি ও সাবেক সচিব ড. মো: শরিফুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধির ধারাবাহিক লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।’ তিনি জানান, সংগঠনটির নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সহিংসতা ও অনিয়মের চিত্র : প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী সহিংসতা, হামলা ও প্রচারণায় বাধার অন্তত ২২টি ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-৪, ফেনী-২, ঢাকা-১৮ ও সাতক্ষীরা-২ আসনে এসব ঘটনা বেশি দেখা গেছে। শেরপুরে এক রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ডকে ‘অশনি সঙ্কেত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার : ২৭টি; ভোটার প্রলোভন ও প্রভাবিতকরণ : ১৬টি; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু ব্যবহার : আটটি; মাইক ও শব্দদূষণ সংক্রান্ত লঙ্ঘন : সাতটি; সময়সীমার আগে প্রচারণা : ছয়টি; সরকারি পদ ও সম্পদের অপব্যবহার : ছয়টি; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার : তিনটি; প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ : তিনটি ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা-১৭, ঢাকা-১১, চট্টগ্রাম-২ ও ৪, কুমিল্লা, বগুড়া, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ বিভিন্ন আসনে এসব অনিয়ম তুলনামূলক বেশি বলে জানানো হয়।
নারীদের ওপর হামলা, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা : সংগঠনটি অভিযোগ করে, বিভিন্ন স্থানে নারী রাজনৈতিক কর্মীদের হেনস্তা ও শারীরিকভাবে বাধা দেয়া হলেও নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইডব্লিউএ’র দাবি, এসব ঘটনায় কমিশনের দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতি জনআস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষক নিবন্ধনে জটিলতা : সংগঠনটি আরো জানায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল ও পুরোপুরি অনলাইনে হওয়ায় অনেকেই নিবন্ধন করতে পারছেন না। এতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নিবন্ধন সহজ করা ও সময় বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
কমিশনের প্রতি আহ্বান : সংবাদ সম্মেলনে ড. শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। এখনো সময় আছে- দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে।

