নির্বাচনের আগে সিলেট বিএনপির বহিষ্কৃতদের কপাল খুলছে

নির্বাচনের আগে সিলেট বিএনপির বহিষ্কৃতদের কপাল খুলছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য একসময় নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন তারা। দলের কঠিন সময়ে মাঠে থেকেছেন, দলীয় কার্যক্রমে অবদান রেখেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়ায় তাদের ওপর নেমে আসে শাস্তির খড়গ—আজীবনের জন্য বহিষ্কার। তবে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তাদের ভাগ্য ঘুরে যেতে পারে। দলীয় সূত্র ও বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিবাচকভাবে ভাবছেন।

২০২৩ সালের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয়। দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকজন নেতা প্রার্থী হন এবং কেউ কেউ নির্বাচিতও হন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৫ জুন রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপির মোট ৪৩ জন নেতাকর্মীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৩৯ জন, নারী ৪ জন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে বহিষ্কৃত নেতাদের বিষয়ে ‘নরম অবস্থান’ নিতে পারে কেন্দ্র। অনেকেই ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ক্ষমা চেয়ে। তাদের আবেদনগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিতও মিলেছে।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “এ ব্যাপারে এখনো আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সিদ্ধান্তের এখতিয়ার কেন্দ্রের। তবে বহিষ্কৃত নেতাদের অতীত অবদান ও রাজনৈতিক ভূমিকা বিবেচনায় কেন্দ্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে আমরা স্বাগত জানাব।”

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, “সেই সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূল। সরকারের চাপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আমি ও আমার মতো অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। অথচ আমি সব সময় দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আশা করি, দল বিষয়টি বিবেচনা করবে।”

জেলা মহিলা দলের বহিষ্কৃত সভাপতি সালেহা কবির শেপী বলেন, “দল বহিষ্কার করলেও আমি বিএনপির জন্য কাজ করে গেছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের মতো অনেকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে। দল আমাদের ত্যাগ ও অবদান নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে বহিষ্কৃত নেতাদের ফিরে আসা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াবে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে দলের শেকড় গভীর করতে এ সিদ্ধান্ত সহায়ক হতে পারে।

আজীবন বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছালাউদ্দিন রিমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ তৌফিকুল হাদি, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক উসমান হারুন পনিরসহ আরও অনেকে।

তাছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে বহিষ্কৃত হয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, মহানগর মহিলা দলের সহসভাপতি রুহেনা বেগম মুক্তা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি কামরুন নাহার তান্নি।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় নেতারা ধীরে ধীরে পুনর্মিলনের পথে হাঁটছেন। আর সেটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বহিষ্কৃত ৪৩ নেতাকর্মীর সামনে খুলে যেতে পারে দলে ফেরার দরজা।