প্রবাসীদের জন্য হাউজিং নয়, সিলেটে দরকার পরিকল্পিত বিজনেস জোন—মিজানুর রহমান মিজান
সিলেট: সিলেটের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার একর জমি নিয়ে প্রবাসীদের জন্য একটি বড় হাউজিং প্রকল্প করার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে অবশ্যই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নেওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকের মতো আমারও কিছু ভিন্ন মতামত রয়েছে।
আমার দৃষ্টিতে, প্রবাসীদের জন্য শুধুমাত্র হাউজিং প্রকল্পে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি কার্যকর নাও হতে পারে। বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধরনের বিনিয়োগে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবতা হলো—আমরা প্রবাসীরা ইতিমধ্যেই দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বড় বড় বাড়ি ও বিল্ডিং নির্মাণ করেছি। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এসব বাড়ি ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে বসবাস করেন একজন দারোয়ান বা কেয়ারটেকার এবং তার পরিবার। ফলে এত বড় বিনিয়োগ সমাজ, জেলা কিংবা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনে না।
এ অবস্থায় অনেকের মতামত হলো, প্রবাসীদের বিনিয়োগকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হয়, তাহলে সিলেটে একটি আধুনিক বিজনেস জোন বা “ইউকে বিজনেস জোন” গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ইউরোপের আদলে পরিকল্পিত এমন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সেখানে প্রবাসীরা শিল্প, ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ এটি কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, শুধুমাত্র আবাসনভিত্তিক প্রকল্প প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ালেও সমাজ ও জেলার উন্নয়নে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে বলে অনেকের মতামত।
এ কারণে অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সিলেটের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত একটি বিজনেস জোন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে এখনই প্রয়োজন এমন উদ্যোগ নিয়ে ভাবা, যা শুধু অবকাঠামো নয়—মানুষের জন্য কাজ, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং স্থায়ী উন্নয়নের পথ তৈরি করবে।
মিজানুর রহমান মিজান
সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী।
ইউকে ।

