সিলেটের ১৯ আসনে নির্বাচনের মাঠে বৈধ ১১০ প্রার্থী, বাছাইয়ে বাতিল ৩৬ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চুড়ান্ত বাছাইয়ে সিলেটের চার জেলার ১৯ আসনে ৩৬ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১১০ জনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ রোববার (০৪ জানুয়ারি) দিনভর বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে এসব তথ্য জানান।
বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের ছয়টি আসনে বৈধ ৩৯ জন এবং বাতিল-৮ জন। সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে বৈধ ২৬ এবং বাতিল ১৩ জন, মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে বৈধ ২৬ জন, বাতিল হয়েছেন ৫ জন এবং হবিগঞ্জে বৈধ ১৯ এবং বাতিল ১০ জনের মনোনয়ন।
বাতিলকৃতদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহেতেশামুল হক, সিলেট-২ আসনে স্বতন্ত্র বিএনপির ইলিয়াস পুত্র আববার ও মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ। সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও মঈনুল বাকের। সিলেট-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা সাঈদ আহমদ, সিলেট-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ, সিলেট-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম।
এছাড়া সুনামগঞ্জ-১ আসনে দুইজন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে একজন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে তিন জন, সুনামগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে তিনজন করে প্রার্থী বাছাইয়ে ঝরে পড়েছেন।
মৌলভীবাজারের-২ আসনে একজন এবং ৩ ও ৪ আসনে দুই জন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা।
হবিগঞ্জ-১ ও ৩ আসনে আসনে একজন করে, হবিগঞ্জ-২ আসনে ৩ জন, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্থগিত ৫ জন থেকে চার প্রার্থী ফিরে আসেন। তারা হলেন-সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং এনসিপির জাহিদুর রহমান এবং সিলেট-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ডালিম।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম রোববার বিকেলে কাগজপত্র যাছাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা দেন। স্থগিত থেকে ফিরে আসা এই চারজনসহ সিলেটের ৬টি আসনে মোট ৩৯ বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে লড়বেন। এই ছয়টি আসনে মোট ৫৬টি মনোনয়ন সংগ্রহ করা হলেও জমা পড়ে ৪৭টি।
সিলেট-১ আসন: আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে বাতিল হয়েছে।
এ আসনে মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন-বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্তি দাস, খেলাফত মজলিশের তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ)প্রনব জ্যোতি পাল ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ কমিনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো.শামিম মিয়া।
সিলেট-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) জামান আহমদ সিদ্দিকী, গণফোরামের মুজিবুল হক, বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর মো. আব্দুল হান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবুর চৌধুরী।
সিলেট-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপির আব্দুল মালিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নুরুল হুদা জুনেদ, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের)-এর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোকমান আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রেদওয়ানুল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মুসলেহ উদ্দিন রাজু।
সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন-বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. রাশেল উল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আলী হাসান, জাতীয় পার্টির মো. মুজিবুর রহমান ডালিম, বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন
সিলেট-৫ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাফিজ মো. আনওয়ার হোসেন খান, এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন ।
সিলেট-৬ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন-বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়ছল আহমদ চৌধুরী, গণ অধিবার পরিষদের জহিদুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর মোহাম্মদ. সেলিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, বিভাগের ১৯টি আসনে ১৭৬টি মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছিল। তন্মধ্যে ১৪৬টি মনোনয়ন জমা পড়ে রিটানিং কর্মকর্তাগণের দপ্তরে।

