সিলেটসহ ছয়টি রুটে ট্রেনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জাতীয় কমিটির
রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। একই সঙ্গে সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল রেলের ছয়টি রুটে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া বর্ধিত ভাড়া অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রেল কর্তৃপক্ষ ঢাকা–কক্সবাজারসহ পূর্বাঞ্চল রেলের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, যা শনিবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন রেলসেতুর ওপর পন্টেজ চার্জ বা মাশুল বাড়িয়ে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় কমিটি।
সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ১৩ বছরে এসব রুটে অন্তত পাঁচ দফা ট্রেনভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কখনো সরাসরি, আবার কখনো কৌশলে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এমনিতেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে আকস্মিকভাবে ট্রেনভাড়া বাড়ানোয় নিয়মিত যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবার সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ছয়টি রুটে ট্রেন ও আসনভেদে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।
রেলওয়ের ভাষায়, রেলপথে কোনো সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো থাকলে ভাড়ার সঙ্গে যে অতিরিক্ত মাশুল যুক্ত করা হয়, সেটিই পন্টেজ চার্জ। এ ক্ষেত্রে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে গণনা করা হয়। অর্থাৎ, এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর দূরত্ব ধরা হয় ২৫ কিলোমিটার, ফলে কাগজে-কলমে যাত্রাপথের দূরত্ব বেড়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ছয়টি রুটে মোট ১১টি সেতুর ওপর পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। রুটগুলো হলো— ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–কক্সবাজার, ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর এবং ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে গত ২৫ মে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে টিকিটের ভাড়া না বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় এ বিষয়ে ১৩টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার প্রথমটিই ছিল ১০০ মিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের সব সেতুতে ২৫ কিলোমিটার হিসাবে পন্টেজ চার্জ আরোপ।
এই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছয়টি রুটে বর্ধিত ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়।
জাতীয় কমিটির নেতারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান।

