ওসমানী মেডিক্যালে দালালের খপ্পরে পড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু

ওসমানী মেডিক্যালে দালালের খপ্পরে পড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের আবুল কাশেম ও তাহমিনা আক্তার দম্পতির সন্তান এ নবজাতক।

তাহমিনা আক্তার এ নিয়ে চারবার সিজারে সন্তান জন্ম দিয়েছেন; কিন্তু একটি সন্তানও বাঁচেনি।

দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় গণধোলাই দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দালাল চক্রের এক সদস্যকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে।

সরেজমিন গেলে মৃত নবজাতকের বাবা জানান, গত শনিবার তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ওসমানী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রোববার বেলা ৪টায় সিজারে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম লাভ করে। তিনি জানান, এর আগে তাদের আরো তিনটি সন্তান এভাবে সিজারে জন্ম হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, রোববার জন্মের পরপরই নবজাতকের এনআইসিউর (নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) প্রয়োজন পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এনআইসিউতে কোনো সিট খালি নেই বলে জানায়। নিরুপায় হয়ে শিশুর বাবা-মা এনআইসিউতে সিট পেতে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে এক দালালের শরণাপন্ন হন। দালাল নিজেকে হাসপাতালের কর্মচারী বলে পরিচয় দেয়। শেষ পর্যন্ত দালাল চক্রের কাছে প্রতারিত হয়ে এনআইসিউ না পেয়ে রাত ১০টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় হাসপাতালে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা দালাল মামুন আহমেদকে ঘেরাও করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটক দালাল চক্রের সদস্য মামুন আহমদ (২৮) সিলেট সদর উপজেলার শিবের বাজারের মেগারগাঁও গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। সে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দালাল চক্রের অন্যতম সদস্য বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো: আলাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গণধোলাইয়ের শিকার মামুন আহমদ নামের দালালকে আটক করা হয়েছে। তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু (নবজাতক ডেলিভারি) ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।