শুধু নামেই নয়, কার্যক্রমেও হোক পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

শুধু নামেই নয়, কার্যক্রমেও হোক পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবতা হলো, এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুবিধা ও কার্যক্রম অর্জন করতে পারেনি। নামের সঙ্গে “আন্তর্জাতিক” শব্দটি থাকলেও দীর্ঘ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্য কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত কার্যক্রম এখানে গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট–ওমান রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানাই। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই উদ্যোগ সিলেট বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে এটিই শেষ লক্ষ্য নয়। ইউকে এনআরবি সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, সিলেট বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এ বিমানবন্দর উন্মুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুবিধা, কার্গো সেবা, যাত্রীসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো সিলেটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হয়।

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতিযোগিতার অভাবে বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি থাকে এবং যাত্রীদের বিকল্পের সুযোগ সীমিত থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা শুধু একটি আঞ্চলিক দাবি নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। সিলেট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল। উন্নত আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে পর্যটন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিমান চলাচল, পর্যটন, হসপিটালিটি ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত হবে। এতে সিলেট একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবে।

আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, বর্তমান সরকার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানাই—সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব কার্যক্রমেও একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এতে সিলেটবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি, দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সকলেই উপকৃত হবে।

মিজানুর রহমান মিজান
ডাইরেক্টর, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)
এবং
ইউকে এনআরবি সোসাইটি