সহায়তা কমলে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়বে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা

সহায়তা কমলে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়বে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন, আগামী মাস থেকে অর্ধেক রেশন কমানোর মার্কিন সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এতে সামাজিক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ খবর দিয়েছে এবিসি নিউজ। 

এতে বলা হয়, ক্ষমতায় এসেই বেশিরভাগ বিদেশি সহয়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া তিনি মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র কার্যক্রমও ভেঙে দিয়েছেন। যার ফলে বিশ্বব্যাপী মানবিক খাতগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ৯০ দিনের জন্য ওই তহবিল স্থগিত করেছেন ট্রাম্প।

জাতিসংঘের প্রধান খাদ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশের কক্সবাজারে আগামী ১লা এপ্রিল থেকে রেশন কমানো হবে। এতে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়বে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর একসঙ্গে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মুসলিম রোহিঙ্গারা জাতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন হয়। তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় হয়। 

পরে ২০২১ সালে দেশটিতে সামরিক শাসন জারি হয়। এরপর থেকে সেনা সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে সেখানে এখনও গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান। ডব্লিউএফপি যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বাংলাদেশের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দৌজা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের জন্য আগে যে বরাদ্দ ছিল তা কমিয়ে অর্ধেক করতে হবে। 

প্রতিমাসে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের বরাদ্দ ছিল ১২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। কমিয়ে সেটা ৬ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে ডব্লিউএফপি। এতে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা কমানোর ফলে তাদের পুষ্টিকর খাবার কমে যাবে। যাতে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। 

এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সামাজিক ও মানসিক চাপ তৈরি হবে। এখন তাদের জন্য খাবারের বিকল্প খুঁজতে হবে বলেও মনে করেন শামসুদ দৌজা। খাদ্য সহায়তা কমানোর সাথে সাথে অন্যান্য খাতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে ডব্লিউএফপি’র খাদ্য সহায়তা কমানোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন তহবিল স্থগিতের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই বলেননি সংস্থাটির ওই কর্মকর্তা।