শিশু নির্যাতন ও গুরুতর অপরাধ দমনে সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন

শিশু নির্যাতন ও গুরুতর অপরাধ দমনে সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এই প্রসঙ্গে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে দেশে অ্যাসিড-সন্ত্রাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। অসংখ্য নিরপরাধ স্কুলছাত্রী ও নারী অ্যাসিড হামলার শিকার হয়ে সারা জীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর সরকারের সময়ে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ এবং অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়। গুরুতর অ্যাসিড অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল।

কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র একটি শক্ত বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছিল। আজকের শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেও আমাদের সেই ধরনের দৃঢ়, দ্রুত ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আমার বিনীত অনুরোধ—শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে গুরুতর অপরাধের বিচার বছরের পর বছর ঝুলে না থাকে।

বিশেষ করে কোনো মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা হোক।

একইভাবে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, তার পরিচয় নয়—অপরাধের প্রমাণই হোক বিচারের ভিত্তি।

আমরা কোনো নিরপরাধ মানুষের শাস্তি চাই না। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ।

প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২-এর মতো কঠোর আইন ও কার্যকর পদক্ষেপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের শিশু নির্যাতন ও গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধেও সরকার যদি দৃঢ় ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য নয়। এটি একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি আন্তরিক আবেদন—আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখুন, অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন এবং আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করুন।

নিরাপদ শিশু, নিরাপদ সমাজ, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।