জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের জোরালো দাবি
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরাতন স্থানে শুধু পার্ক নয়, চাই আধুনিক মাল্টিপারপাস সেন্টার
সিলেটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম জনকল্যাণমূলক ব্যবহারের লক্ষ্যে জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হচ্ছে - মিজানুর রহমান মিজান
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরাতন স্থানে আধুনিক মাল্টিপারপাস সেন্টার নির্মাণের জোরালো দাবি । সিলেটবাসী, প্রবাসী সিলেটবাসী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি উন্নয়নমূলক আহ্বান
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সিলেটবাসী, দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত সম্মানিত প্রবাসী সিলেটবাসী এবং সিলেটের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ,আপনাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিলেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই।
আমাদের সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জেল রোডে অবস্থিত পুরাতন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, বরং আগামী কয়েক দশকের জন্য সিলেটের উন্নয়ন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
আমরা জেনেছি, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও সিলেটের সম্মানিত জনপ্রতিনিধি জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই স্থানে একটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। নগরীতে সবুজায়ন, উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক নির্মাণের উদ্যোগকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সাধুবাদ জানাই। তবে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সিলেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এত মূল্যবান জমি শুধুমাত্র একটি পার্ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত হবে না।
আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বসবাস করছি। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ক্রীড়া অবকাঠামো এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। তাই আমাদেরও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদি ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমি একজন সচেতন সিলেটের নাগরিক, সমাজসেবী, সাবেক খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ী হিসেবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বিনীতভাবে দাবি জানাচ্ছি, এই স্থানে শুধু পার্ক নয়, বরং একটি আধুনিক মাল্টিপারপাস সেন্টার (Multipurpose Development Centre) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
আমার প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় একই স্থানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থাকবে।

আমার প্রস্তাবিত চারটি উন্নয়ন প্রকল্প
১. আধুনিক অটোমেটেড মাল্টি-স্টোরি কার পার্কিং
উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেটেড কার পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। যেখানে চালক গাড়ি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে প্রযুক্তির মাধ্যমে পার্কিং করবেন এবং প্রয়োজনের সময় বোতাম চাপলেই গাড়ি সামনে চলে আসবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রায় ১৫ তলা বিশিষ্ট পার্কিং অবকাঠামো এবং সম্ভাব্য ২,০০০ গাড়ি রাখার সক্ষমতা যাচাই করা যেতে পারে। এতে নগরীর যানজট ও পার্কিং সংকট অনেকাংশে কমবে।
২. আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম হকি মাঠ
সিলেটে একটি আধুনিক কৃত্রিম হকি মাঠ নির্মাণ করা হোক। একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি।
এখানে হকি প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা, টুর্নামেন্ট ও জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সিলেট থেকে নতুন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হবে।আন্তর্জাতিক মানের খেলা আয়োজন করা হবে।
৩. আধুনিক ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স
একটি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হোক, যেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে।
ইনডোর গেমস ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রশিক্ষণ।
আধুনিক জিমনেশিয়াম ও ব্যায়ামের সরঞ্জাম।
শিশু, কিশোর, তরুণ ও নারী-পুরুষ সবার জন্য ক্রীড়া সুবিধা।
দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গঠনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
৪. আধুনিক সবুজ পার্ক ও বিনোদন এলাকা
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাকেও এই বৃহৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাখা হোক।
এখানে থাকবে সবুজ উদ্যান, হাঁটার পথ, বসার স্থান, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটানোর সুন্দর পরিবেশ।
অর্থাৎ, নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগও নিশ্চিত হবে।
কেন এই মাল্টিপারপাস সেন্টার সিলেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
আমার বিশ্বাস, এই চারটি প্রকল্প একই ছাদের নিচে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সিলেটের উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশে এটি হবে সর্বপ্রথম মাল্টিপারপাস সেন্টার এবং আপনি বেঁচে থাকবেন সাধারণ মানুষের মাঝে আজীবন।
এর মাধ্যমে—
1. নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট ও গাড়ি পার্কিং সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
2. সিলেটে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে।
3. তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।
4. প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েকশ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
5. প্রকল্পটি সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হলে সরকার নিয়মিত রাজস্ব ও আয়ের একটি নতুন উৎস পাবে।
6. দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে সিলেটের আধুনিক ও উন্নত নগরী হিসেবে পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে।
7. সরকারি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ও জনকল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একজন বিচক্ষণ, সৎ ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিলেটবাসীর কাছে পরিচিত। আমি বিশ্বাস করি, তিনি সিলেটের মানুষের কল্যাণে একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।
তাই আমার বিনীত অনুরোধ, আপনি যদি এই স্থানে শুধুমাত্র পার্ক নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন।
কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন। খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামত গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত প্রভাব, আর্থিক ব্যয়, পার্কিং সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন পরিকল্পনা তৈরি করা হোক।
আমরা চাই, এই জমি এমন একটি প্রকল্পে ব্যবহার হোক, যেখানে সরকার, সিলেটের সাধারণ মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সবাই উপকৃত হবে ও পাশাপাশি সরকার ও উপকৃত হবে।
সিলেটের প্রবাসী ও সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান
আমি আমাদের সংগঠন জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সিলেটের দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকল সচেতন নাগরিক, প্রবাসী ভাই-বোন, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন এবং উন্নয়নকামী ব্যক্তিবর্গের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
আপনারা যার যার অবস্থান থেকে, নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করুন। যদি আপনাদের কাছে মনে হয়, এই পরিকল্পনা সিলেটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তাহলে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও সমর্থন তুলে ধরুন।
আমরা প্রয়োজনে এই প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছেও উপস্থাপন করব এবং তাঁর সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করব।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার করছি, সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করব।
আমার শেষ কথা
আমি সবিনয় অনুরোধ করছি যে, এটি কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয় এবং কারও সিদ্ধান্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনও নয়।
এটি সম্পূর্ণভাবে সিলেটের উন্নয়ন, জনস্বার্থ এবং একটি মূল্যবান সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের প্রশ্ন।
আমি ইতোমধ্যে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার প্রস্তাবিত মাল্টিপারপাস সেন্টারের একটি প্রাথমিক নকশা তৈরি করেছি। সেটি দেখলেই বোঝা যাবে, আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই জায়গাটিকে কতটা দৃষ্টিনন্দন, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক স্থাপনায় রূপান্তর করা সম্ভব।
এটি আমার প্রাথমিক প্রস্তাব। বিস্তারিত পরিকল্পনা, সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরবর্তীতে ভিডিওর মাধ্যমে আরও বিস্তারিত তুলে ধরব।
আমাদের দাবি একটাই—সিলেটের প্রাণকেন্দ্রের এই মূল্যবান জমি শুধু একটি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন একটি আধুনিক মাল্টিপারপাস সেন্টার গড়ে তোলা হোক, যা হবে সিলেটের গর্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার।
আসুন, দল-মত, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই।
আমরা এমন একটি সিলেট চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, কর্মসংস্থান হবে বিস্তৃত, তরুণ প্রজন্ম হবে খেলাধুলামুখী এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহৃত হবে সর্বোচ্চ জনকল্যাণে।
ইনশাআল্লাহ, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত সিলেট গড়ে তুলতে পারব।
সিলেটের উন্নয়ন হোক, সিলেটবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক।

